Home Technology WiFi কিভাবে মোবাইল ও কম্পিউটারে ইন্টারনেট দেয়

WiFi কিভাবে মোবাইল ও কম্পিউটারে ইন্টারনেট দেয়

27
0

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে আমরা খুব সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করি WiFi এর মাধ্যমে। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—WiFi  আসলে কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে এটি মোবাইল ও কম্পিউটারে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়? এই পোষ্টে আমরা সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করব।

WiFi কী?

WiFi হলো একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কোনো তার ছাড়াই ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা যায়। WiFi মূলত রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) ব্যবহার করে ডিভাইসের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ তৈরি করে।

WiFi কীভাবে কাজ করে?

WiFi কাজ করার জন্য সাধারণত কয়েকটি ধাপ থাকে।

. ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP): প্রথমে আপনার এলাকায় কোনো ইন্টারনেট কোম্পানি থেকে ইন্টারনেট আসে। এটিকে বলা হয় Internet Service Provider (ISP)। তারা কেবল বা ফাইবার অপটিক লাইনের মাধ্যমে আপনার বাসা বা অফিসে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়।

. মডেম: ইন্টারনেট লাইনের সাথে একটি মডেম (Modem) যুক্ত থাকে। মডেমের কাজ হলো বাইরের ইন্টারনেট সিগন্যালকে এমন ফরম্যাটে রূপান্তর করা যাতে তা আপনার ডিভাইস ব্যবহার করতে পারে।

. রাউটার: মডেমের সাথে একটি WiFi Router যুক্ত থাকে। রাউটার ইন্টারনেটকে ওয়্যারলেস সিগন্যাল এ রূপান্তর করে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়।

. ডিভাইস সংযোগ: আপনার মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার যখন WiFi চালু করে, তখন এটি কাছাকাছি থাকা রাউটারের সিগন্যাল খুঁজে পায়। পাসওয়ার্ড দিয়ে সংযুক্ত হলে ডিভাইসটি সেই রাউটার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

WiFi কীভাবে মোবাইলে ইন্টারনেট দেয়: মোবাইল ফোনে WiFi ব্যবহার করলে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ইন্টারনেট কাজ করে।

১. WiFi সিগন্যাল খোঁজা: মোবাইলের WiFi চালু করলে ফোনটি আশেপাশে থাকা রাউটারের সিগন্যাল খুঁজতে শুরু করে। তখন স্ক্রিনে বিভিন্ন WiFi নেটওয়ার্কের নাম (SSID) দেখা যায়।

২. রাউটারের সাথে সংযোগ: আপনি যখন নির্দিষ্ট WiFi নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে পাসওয়ার্ড দেন, তখন মোবাইলটি রাউটারের সাথে সংযুক্ত হয়।

৩. IP Address পাওয়া: রাউটারের সাথে সংযুক্ত হওয়ার পর মোবাইলটি রাউটার থেকে একটি IP Address পায়। এই IP Address এর মাধ্যমে মোবাইলটি ইন্টারনেটে নিজের পরিচয় তৈরি করে।

৪. ডাটা আদান-প্রদান

যখন আপনি মোবাইলে—

  • Facebook ব্যবহার করেন
  • YouTube ভিডিও দেখেন
  • Google এ কিছু সার্চ করেন

তখন মোবাইল থেকে রাউটারে একটি ডাটা অনুরোধ (Request) পাঠানো হয়।

৫. ইন্টারনেট সার্ভার থেকে ডাটা আসা: রাউটার সেই অনুরোধ ইন্টারনেটের সার্ভারে পাঠায়। এরপর সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ফিরে আসে এবং রাউটার WiFi সিগন্যালের মাধ্যমে মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়।

WiFi কীভাবে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট দেয়: কম্পিউটার বা ল্যাপটপেও প্রায় একইভাবে WiFi কাজ করে, তবে কিছু অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে।

১. WiFi Adapter ব্যবহার: কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটি WiFi Adapter থাকে। এই ডিভাইসটি রাউটারের সিগন্যাল গ্রহণ করে।

২. নেটওয়ার্ক নির্বাচন: কম্পিউটারের WiFi চালু করলে আশেপাশের WiFi নেটওয়ার্কের তালিকা দেখা যায়। তখন আপনি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে পাসওয়ার্ড দিয়ে সংযুক্ত হতে পারেন।

৩. রাউটারের সাথে সংযোগ: সংযুক্ত হওয়ার পর কম্পিউটার রাউটারের কাছ থেকে একটি IP Address পায় এবং নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে যায়।

৪. ইন্টারনেট ব্যবহার

যখন আপনি—

  • ওয়েবসাইট ব্রাউজ করেন
  • সফটওয়্যার আপডেট করেন
  • অনলাইন গেম খেলেন

তখন কম্পিউটার রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ডাটা পাঠায় ও গ্রহণ করে।

৫. দ্রুত ডাটা আদান-প্রদান: ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে সাধারণত বড় ডাটা ব্যবহার হয়, তাই WiFi এর মাধ্যমে দ্রুতগতিতে ডাটা আদান-প্রদান হয়।

WiFi এর মাধ্যমে ডাটা আদানপ্রদান কীভাবে হয়: WiFi আসলে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ডাটা পাঠায় ও গ্রহণ করে। যখন আপনি কোনো ওয়েবসাইট খুলেন বা ভিডিও দেখেন, তখন—

  • আপনার ডিভাইস রাউটারকে একটি অনুরোধ পাঠায়
  • রাউটার সেই অনুরোধ ইন্টারনেট সার্ভারে পাঠায়
  • সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় ডাটা ফিরে আসে
  • রাউটার সেই ডাটা WiFi সিগন্যালের মাধ্যমে আপনার ডিভাইসে পাঠিয়ে দেয়

এই পুরো প্রক্রিয়া কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

wi-fi কে আবিষ্কার করেন: Wi-Fi আবিষ্কার করেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী John O’Sullivan এবং তার গবেষক দল। তারা অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান CSIRO-তে কাজ করার সময় এই প্রযুক্তি তৈরি করেন।

Wi-Fi এর জনক (Father of Wi-Fi) কে: ভিক হেইস (Vic Hayes) কে সাধারণত ওয়াই-ফাই (WiFi) এর জনক বা “Father of Wi-Fi” বলা হয়

ওয়াইফাই কত সালে চালু হয়: ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির উৎপত্তি 1985 থেকে পাওয়া যায়। সেই বছরে ইউএস ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) লাইসেন্সবিহীন ব্যবহারের জন্য রেডিও স্পেকট্রামের বেশ কয়েকটি ব্যান্ড প্রকাশ করে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি নতুন উপলব্ধ রেডিও স্পেকট্রামের সুবিধা নিতে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক এবং ডিভাইস তৈরি করতে শুরু করে।

WiFi প্রযুক্তি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে Institute of Electrical and Electronics Engineers। তারা ১৯৯৭ সালে প্রথম IEEE 802.11 নামের একটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করে। এই স্ট্যান্ডার্ডই পরবর্তীতে WiFi প্রযুক্তির ভিত্তি হয়ে যায়।

WiFi এর গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো

  • ১৯৯৭ – প্রথম WiFi স্ট্যান্ডার্ড (IEEE 802.11) প্রকাশ
  • ১৯৯৯ – WiFi প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হতে শুরু করে
  • ১৯৯৯ – Wi‑Fi Alliance গঠিত হয় এবং “WiFi” নামটি প্রচলিত হয়

WiFi ব্যবহারের সুবিধা: WiFi ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন:

  • তার ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়
  • একসাথে অনেক ডিভাইস সংযুক্ত করা যায়
  • মোবাইল ও ল্যাপটপ সহজে ব্যবহার করা যায়
  • বাড়ি, অফিস, ক্যাফে ইত্যাদি জায়গায় সহজে নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায়

WiFi প্রযুক্তির কারণে আজ আমরা খুব সহজেই মোবাইল ও কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি। মডেম ও রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সিগন্যাল রেডিও তরঙ্গের সাহায্যে আমাদের ডিভাইসে পৌঁছে যায়। তাই WiFi আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।